সোহরাব আরেফিন অমিত
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৪ ১৫:৪২ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুহাতা গ্রামে চল্লিশের দশকে ছিল ছোট একটি মসজিদ। পরে মুসল্লিদের স্থানসংকুলানের কথা ভেবে এ অঞ্চলের ধনাঢ্য ও ধর্মানুরাগী মো. হাফিজ উদ্দিন মসজিদটি বড় করার পরিকল্পনা নেন। ১৩৪৯ বঙ্গাব্দে মসজিদটি বড় করার জন্য একটি স্থান নির্ধারণ করেন এবং মসজিদের কল্যাণে ব্যয়ের কাজে সহায়ক হওয়ার জন্য মসজিদের নামে ৩৬০ শতাংশ জমিও দান করেন। মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রয়োজন ইটের। সে ইটের জোগান দিতে তিনি নিজেই একটি ইটভাটা দেন। ইটভাটাটি বাণিজ্যিক না হওয়ায় কাঠে পোড়ানো ইট মানসম্মত হয়নি। এজন্য তখন তিনি ট্রেনের একজন লোকোমাস্টারের (ট্রেনচালক) মাধ্যমে যৎসামান্য মূল্যে এক ওয়াগন কয়লার বন্দোবস্ত পান। সে কয়লায় পুড়িয়ে ২ লাখের বেশি তৈরি ইট দিয়ে নির্মিত হয় সুহাতা মসজিদ।
আধুনিককালে প্রাচীন স্থাপত্যের অনুকরণে নির্মিত এ মসজিদটির
দৈর্ঘ্য ৫৪ ফুট, প্রস্থ ২৪ ফুট। মসজিদটির দেয়াল ৩ ফুটের বেশি পুরো। এর নির্মাণকাজে
ইট, চুন, সুরকি ও লোহার পাটাতন ব্যবহার করা হয়েছে। মসজিদটিতে
তিনটি গম্বুজ ও ১২টি মিনার রয়েছে। মাঝখানের গম্বুজটি অন্য দুটির চেয়ে আকারে বড়।
মসজিদটির মূল প্রবেশপথ একটি এবং ভেতরে আরও তিনটি দরজা ও দুটি জানালা রয়েছে। সুরম্য নকশা ও কারুকার্য খচিত মসজিদটি নির্মাণে লাগে চার বছর। নকশা আঁকা ও
অন্য যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয় পুরান ঢাকার তৎকালীন স্বনামধন্য
প্রকৌশলী মো. আবদুস ছাত্তারের তত্ত্বাবধানে।
সুহাতা গ্রামের
এ মসজিদের কোনো নামকরণের ইচ্ছে মো. হাফিজ উদ্দিনের ছিল না। স্থানীয়রা বলেন, ‘মসজিদ
আল্লার ঘর। তাই প্রতিষ্ঠাতা মসজিদের নাম দিতে ইচ্ছুক ছিলেন না। কিন্তু সম্ভবত তিনটি
গম্বুজ থাকায় লোকজন একে তিন গম্বুজ মসজিদ বলে ডাকেন। তবে আমরা এ মসজিদকে সুহাতা জামে
মসজিদ বলেই পরিচয় দিই।’