প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৪ ১৪:১৯ পিএম
সাতক্ষীরার শাহি মসজিদ
সাতক্ষীরার তেঁতুলিয়ার শাহি জামে মসজিদটি ইসলাম ও ঐতিহ্যের এক প্রাচীন নিদর্শন। সময়ের পরিক্রমায় মসজিদটি মিয়া মসজিদ নামে বর্তমানে সুপরিচিত। তেঁতুলিয়া জামে মসজিদ, খান বাহাদুর সালামতুল্লাহ মসজিদ ও তেতুলিয়া শাহি মসজিদ নামেও পরিচিত। মসজিদটির অবস্থান সাতক্ষীরার তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে। কালের বিবর্তনে ও সংস্কারের অভাবে মসজিদটি শোভা হারাতে বসেছে। জানা যায়, ১৬ শতাব্দীর প্রারম্ভে ধার্মিক মুসলিম জমিদার কাজী সালামতুল্লাহ খান বাহাদুর এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদটির নকশা ও কারুকাজের প্রধান দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন তৎকালীন সুদূর বিহারের এক বাসিন্দা। মসজিদটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা ধর্মতলা টিপু সুলতান মসজিদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। অথচ সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ, সংস্কার ও যথাযথ পরিচ্ছন্নতার অভাবে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সর্ববৃহৎ ইবাদতখানাটির সৌন্দর্য বিলুপ্তপ্রায়। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে মসজিদটির দেখাশোনা করা খাদেম মো. মাসুদুর রহমান বলেন, গত ২৬ বছরে মসজিদের কোনো সংস্কার হয়নি। মোগল শাসনামলে তৈরি এ মসজিদটি সঠিক দেখভালের অভাবে নিজের সৌন্দর্য হারাতে বসেছে। মসজিদের খতিব আবদুর রব বলেন, মোগল আমলের এ মসজিদটি দেশের গৌরব। এখানে প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী আসে। তবে মসজিদের প্রাচীর ও মিনারের অংশগুলো লোনা ধরে ধসে পড়ছে। বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল ধরেছে। ভবনটি কিছু অংশ দুর্বল হওয়ায় ধসে পড়ার উপক্রম।
প্রায় ৪০০ বছরের
ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি সংস্কারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে মসজিদের ইমাম মো.
আবদুল জর্দ্দার বলেন, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাজ পুরাকীর্তিগুলো সংরক্ষণ করা।
কিন্তু তারাও মসজিদটি সংরক্ষণে যথাযথ উদ্যোগী নয়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা
বিভাগীয় প্রধান লাভলী ইয়াসমিন বলেন, মসজিদটি সংস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়ে জানানো
হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।